এইচআইভি এবং যক্ষার সংক্রমন

১. টিবি বা যক্ষ্মা কী?

যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ যা মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলেসিস (বা যক্ষ্মা জীবানু) নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। যক্ষ্মা প্রধানত: ফুসফুসে হয় তবে ফুসফুস ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ বা স্থানে হতে পারে।  

২. যক্ষ্মা  রোগের বিস্তার এবং ভয়াবহতাঃ

যক্ষ্মা রোগীর কফ, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের জীবানু বের হয়ে বাতাসে মিশে ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা সুস্থ ব্যক্তির ফুসফুসে ঢুকে বংশ বৃদ্ধি করে। যক্ষারোগী তার পরিবারের সদস্য ও আশে-পাশের ব্যক্তিদের মাঝে এ রোগ ছড়াতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, বিশেষত যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত তাদের যক্ষ্মা রোগের ঝুকি অন্যান্য জনগোষ্ঠীর চেয়ে অধিক ।  

৩. এইচআইভি এবং যক্ষার সম্পর্কঃ

যক্ষারোগ এবং এইচআইভির মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে । যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত তাদের যক্ষারোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি এইচআইভি বিহীন ব্যক্তির তুলনায় ২৯ গুন বেশী। যেহেতু এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল তাই যক্ষা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে সহজেই তার যক্ষায় আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থাকে। কিন্তু যক্ষা আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে যদি এইচআইভির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরনগুলো না থাকে তবে তার এইচআইভিতে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা কম।  

৪. যেভাবে যক্ষ্মা ছড়ায় না:
  • কারো সাথে করোমর্দণ করলে
  • খাদ্য বা পানীয় ভাগাভাগি করলে
  • একই বিছানা বা টয়লেট ব্যবহার করলে
  • টুথব্রাশ ভাগাভাগি করলে
৫. ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ কী কী?
  • এক নাগারে দুই সপ্তাহ বা তার অধিক সময় ব্যাপী কাশি
  • কফের সাথে রক্ত আসা, জ্বর, বুকে ব্যথা, খাবারে অরুচি, শ্বাস কষ্ট ও ওজন কমে যাওয়া
  • সাধারন এন্টিবায়োটিক দিয়ে এ কাশি নিরাময়যোগ্য নয়  

৬. যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধঃ

যেহেতু যক্ষ্মা একটি সংক্রমক রোগ তাই এর প্রতিরোধে সকল নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে:
  • রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ প্রকাশ পেলে প্যারামেডিক/কাউন্সেলর, স্বাস্থ্য-সহকারী/স্বাস্থ্যকর্মী, গ্রাম ডাক্তারদের পরামর্শ নেয়া।
  • রোগ সনাক্ত হলে অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করা এবং নিয়মিত, সঠিক মাত্রায়, ক্রমাগতভাবে ও পূর্ণ মেয়াদে ঔষধ সেবন করা।
  • রোগীর কফ থুথু নিদিষ্ট পাত্রে ফেলা ও পরে তা পুঁতে/পুড়ে ফেলা।
  • পরিবারের একজন রোগী হলে এবং পরিবারের অন্যদের যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ থাকলে তাদের কফ পরীক্ষা করানো।
  • জন্মের পর পর শিশুকে বিসিজি টিকা দেয়া।